Posts

Showing posts from March, 2025

ডক্টর ইউনুসের চীন সফর: ৫৪ বছরের রুদ্ধ পথ খুলে দেওয়ার ইতিহাস গড়ার মুহূর্ত?

Image
ডক্টর ইউনুসের চীন সফর: ৫৪ বছরের রুদ্ধ পথ খুলে দেওয়ার ইতিহাস গড়ার মুহূর্ত?   প্রফেসর ডক্টর মুহাম্মদ ইউনুসের চীন সফরকে ঘিরে বাংলাদেশসহ আন্তর্জাতিক মহলে তৈরি হয়েছে জোরালো উত্তাপ। এই সফরে ৫৪ বছরের অমীমাংসিত ইস্যুগুলির ঐতিহাসিক সমাধান, রোহিঙ্গা সংকটের যুগান্তকারী সমাধানের পথ এবং বাংলাদেশ-চীন-তুরস্কের মধ্যে কৌশলগত অংশীদারিত্বের নতুন অধ্যায় শুরু হতে যাচ্ছে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।   কী কী হতে যাচ্ছে এই সফরে? ১. তিস্তা চুক্তির যুগান্তকারী সমাধান:   ৫৪ বছর ধরে অমীমাংসিত তিস্তা জলবণ্টন চুক্তির সমাধান হতে পারে এই সফরে। ভারতের দীর্ঘদিনের বাধা উপেক্ষা করে বাংলাদেশ ও চীনের যৌথ উদ্যোগে এই প্রকল্প বাস্তবায়নের ঘোষণা আসতে পারে।   ২. সামরিক ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতা:    ব্রেইন হ্যাকিং প্রতিরোধে উচ্চপ্রযুক্তির সাইবার সিকিউরিটি চুক্তি বা যুগান্তকারী প্রতিরক্ষা সহায়তার ঘোষণা আসতে পারে।   ৩. ১ লাখ শয্যার হাসপাতাল প্রকল্প:    তুরস্কের অংশীদারিত্বে বাংলাদেশে গড়ে উঠতে পারে এশিয়ার অন্যতম বৃহৎ মেডিকেল হাব, যা স্বাস্থ্যখাতে বিপ্লব ঘটাবে।   ৪. বাং...

জাতির উদ্দেশে প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনুসের ভাষণের মূল বিষয় সমূহ

Image
জাতির উদ্দেশে প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনুসের ভাষণ মহান স্বাধীনতা দিবস ও পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে বিশেষ বক্তব্য 🌺 স্বাধীনতা দিবসের শুভেচ্ছা ও গৌরবগাথা  ২৫ মার্চ, মানব সভ্যতার ইতিহাসে কলঙ্কিত এক হত্যাযজ্ঞের দিন। ১৯৭১ সালের এই রাতে পাক হানাদার বাহিনী নিরস্ত্র বাঙালির ওপর নির্মম হামলা চালিয়েছিল। ৯ মাসের রক্তক্ষয়ী সংগ্রামে ৩০ লাখ শহীদ ও ২ লাখ নির্যাতিত নারীর আত্মত্যাগে জন্ম নেয় স্বাধীন বাংলাদেশ।" শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা: মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের স্মরণ, জুলাই অভ্যুত্থানের শহীদদের প্রতি জাতির পক্ষ থেকে সালাম।   স্বাধীনতা ২.০: বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ার সংকল্পে নতুন প্রজন্মের অঙ্গীকার।   🌙 পবিত্র ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা ঈদ মোবারক: সকল নাগরিকের জন্য নিরাপদ, আনন্দময় ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ঈদ কামনা।   দ্রব্যমূল্য ও বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনা: রমজান ও ঈদে দাম নিয়ন্ত্রণে সরকারের সফলতা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা।   📈 অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার ও অগ্রগতি ১. মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ: ফেব্রুয়ারিতে ৯.৩২% (২২ মাসের সর্বনিম্ন), জুনের মধ্যে ৮% এর নিচে লক্ষ্য।  ...

মহান স্বাধীনতা দিবস ও পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে জাতির উদ্দেশে প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনুসের ভাষণঃ

Image
  মহান স্বাধীনতা দিবস  ও পবিত্র ঈদুল ফিতর  উপলক্ষে জাতির উদ্দেশে প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনুসের ভাষণঃ ২৫ মার্চ ২০২৫ ইংরেজি। বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম প্রিয় দেশবাসী , শিশু, কিশোর-কিশোরী, তরুণ-তরুণী, ছাত্র-ছাত্রী, বয়স্ক, বৃদ্ধ, নারী-পুরুষ সবাইকে জানাই আমার সালাম। আসসালামু আলাইকুম। আজ ২৫ শে মার্চ, মানব সভ্যতার ইতিহাসে কলঙ্কিত এক হত্যাযজ্ঞের দিন। ১৯৭১ সালের আজকের রাতে পাক হানাদার বাহিনী নিরপরাধ, নিরস্ত্র, ঘুমন্ত বাঙালির ওপর নির্মমভাবে গুলি চালিয়ে হাজারো মানুষকে হত্যা করেছে। ২৫ শে মার্চ থেকেই এ দেশের মানুষ সশস্ত্র প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিল। ৯ মাসের যুদ্ধের মধ্য দিয়ে স্বাধীন হয় বাংলাদেশ। মহান স্বাধীনতা দিবসের প্রাক্কালে আমি গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের; যাদের প্রাণের বিনিময়ে আমরা স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ পেয়েছি। ৯ মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে লক্ষ লক্ষ শহীদ ও দুই লাখ নির্যাতিত নারীর আত্মত্যাগ পৃথিবীর মানচিত্রে বাংলাদেশ নামে একটি স্বাধীন ভূখণ্ডের জন্ম দিয়েছে। মুক্তিযুদ্ধের এই বীরদের প্রতি আমার সালাম। সেইসঙ্গে চব্বিশের জুলাই অভ্যুত্থানে...

শহীদ জননী: আবরার ফাহাদের মা ও সমগ্র বাংলাদেশের সন্তানের কান্না

Image
  শহীদ জননী: আবরার ফাহাদের মা ও সমগ্র বাংলাদেশের সন্তানের কান্না পুরস্কার হাতে নিয়ে আবরার ফাহাদের মা যখন বললেন, "এই পুরস্কার শুধু আবরারের না, এটি বাংলাদেশের জন্য কথা বলা প্রতিটা মানুষের," তখন সেটি ছিল কেবল একটি মায়ের উচ্চারণ নয়; সেটি ছিল এক শহীদ জননীর দৃঢ় প্রত্যয়। এই কথাগুলো যেন সমগ্র জাতির হৃদয়ে প্রতিধ্বনিত হলো। আবরার ফাহাদ মরে গিয়ে শুধুমাত্র তার মায়ের সন্তান থাকেননি, তিনি হয়ে উঠেছিলেন সমগ্র বাংলাদেশের সন্তান। তাঁর রক্তে রঞ্জিত পথ বেয়ে ন্যায়বিচারের যে দাবি উঠে এসেছিল, তা কেবল একটি পরিবারের আর্তনাদ ছিল না; ছিল সমগ্র বাংলাদেশের গণমানুষের প্রতিধ্বনি। আজ আবরারের মা যখন বলছেন, "ভবিষ্যতে আর কোন সন্তান যেন দেশের হয়ে কথা বলার জন্য প্রাণ না দিতে হয়," তখন সেটি যেন সমস্ত মায়ের আকুতি হয়ে উঠেছে। এটি সেই মায়ের আহ্বান, যিনি শুধু নিজের সন্তানের জন্য কাঁদেননি; কেঁদেছেন দেশের জন্য কথা বলা সমস্ত সন্তানের জন্য। শহীদ জননীরা বুঝি এমনই হন! নিজের সন্তান হারিয়েও সমস্ত সন্তানের মা হয়ে ওঠেন। আজ এই শহীদ জননীকে দেখে মনে পড়ে সেই সমস্ত মায়েদের কথা, যারা তাদের বুকের ধন...

বাসা গুছিয়ে রাখার সহজ পদ্ধতি

Image
  বাসা গুছিয়ে রাখা অনেকের কাছেই ঝামেলার কাজ মনে হতে পারে, তবে কিছু সহজ পদ্ধতি অনুসরণ করলে এটা খুব সহজ হয়ে যাবে। নিচে কয়েকটি কার্যকর কৌশল দেওয়া হলো: ১. দৈনিক ১০-১৫ মিনিট সময় দিন প্রতিদিন মাত্র ১০-১৫ মিনিট গুছানোর অভ্যাস করলে বাসা কখনোই অতিরিক্ত অগোছালো হবে না। সকাল বা রাতের দিকে এই সময় বের করে নিতে পারেন। ২. "একবার ধরো, জায়গায় রাখো" নিয়ম মেনে চলুন কোনো জিনিস হাতে নিলে তা ব্যবহার শেষে সাথে সাথেই নির্দিষ্ট স্থানে ফিরিয়ে রাখুন। এতে অপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র জমে থাকবে না। ৩. প্রয়োজন নেই এমন জিনিস ফেলে দিন মাসে অন্তত একবার অপ্রয়োজনীয় কাপড়, পেপার, পুরনো কসমেটিকস বা ব্যবহারের অনুপযোগী জিনিস ফেলে দিন বা দান করুন। বাসায় অপ্রয়োজনীয় জিনিস যত কম থাকবে, তত সহজে গুছিয়ে রাখা যাবে। ৪. একেকটি জিনিসের জন্য নির্দিষ্ট স্থান নির্ধারণ করুন চাবি, মোবাইল চার্জার, বিল পেমেন্টের রসিদ বা অন্যান্য ছোটখাট জিনিস রাখার জন্য নির্দিষ্ট স্থান রাখুন। এতে খুঁজতে সময় লাগবে না এবং বাসা গোছানো থাকবে। ৫. কাপড় বা জিনিসপত্র ক্যাটাগরি অনুযায়ী রাখুন কাপড়, বই, রান্নাঘরের জিনিস ইত্যাদি আলাদা আলাদা ভাগে র...

প্রফেসর ডক্তর মুহাম্মদ ইউনুসের

Image
প্রফেসর ডক্তর মুহাম্মদ ইউনুসের জন্ম ও প্রারম্ভিক জীবন: মুহাম্মদ ইউনুস ২৮ জুন ১৯৪০ সালে তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের (বর্তমান বাংলাদেশ) চট্টগ্রাম জেলার হাটহাজারী থানায় জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর বাবা হাজী দুলা মিয়া শাহ ছিলেন একজন স্বর্ণকার, আর মা সুফিয়া খাতুন সমাজসেবায় সক্রিয় ছিলেন। পরিবারের আর্থিক সচ্ছলতা সত্ত্বেও মায়ের মানবসেবার মনোভাব ইউনুসের মনে গভীর প্রভাব ফেলে। শিক্ষা: ইউনুস চট্টগ্রাম কলেজিয়েট স্কুল থেকে মাধ্যমিক পাস করে চট্টগ্রাম কলেজে ভর্তি হন। পরবর্তীতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৬০ সালে অর্থনীতিতে স্নাতক ও ১৯৬১ সালে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন। ফুলব্রাইট স্কলারশিপ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ভ্যান্ডারবিল্ট বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ালেখা করেন এবং ১৯৬৯ সালে অর্থনীতিতে পিএইচডি সম্পন্ন করেন। পেশাগত জীবন: যুক্তরাষ্ট্রে মিডল টেনেসি স্টেট ইউনিভার্সিটিতে অধ্যাপনার পর ১৯৭২ সালে স্বাধীন বাংলাদেশে ফিরে আসেন। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্থনীতি বিভাগের প্রধান হিসেবে যোগ দেন। ১৯৭৪ সালের ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ তাঁকে গভীরভাবে নাড়া দেয়, যা তাঁকে দারিদ্র্য বিমোচনের নতুন পথ খুঁজতে অনুপ্রাণিত করে। গ্রামীণ ব্যাংক ও মাইক্রোক্রেড...

মার্চের বেতন ২৩ মার্চ: কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনা

Image
মার্চের বেতন ২৩ মার্চ: কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনা আগামী ৩১ মার্চ পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপিত হবে। তাই সরকারি কর্মকর্তা, কর্মচারী ও অবসরপ্রাপ্ত পেনশনারদের বেতন-ভাতা ২৩ মার্চ প্রদানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এই সিদ্ধান্তের সাথে সঙ্গতি রেখে, বাংলাদেশ ব্যাংক দেশের তফসিলি ব্যাংকগুলোর কর্মকর্তা-কর্মচারী ও অবসরপ্রাপ্ত পেনশনারদের বেতন-ভাতা একই তারিখে প্রদানের জন্য নির্দেশনা জারি করেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ (বিআরপিডি) থেকে বৃহস্পতিবার (২০ মার্চ) এই নির্দেশনা জারি করা হয়। নির্দেশনায় বলা হয়েছে, সরকারি পঞ্জিকা-২০২৫ অনুযায়ী, ঈদুল ফিতর ৩১ মার্চ অনুষ্ঠিত হবে। ফলে সরকারি, আধা-সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারী, সামরিক বাহিনীর সদস্য এবং অবসরপ্রাপ্ত পেনশনারদের মার্চ মাসের বেতন-ভাতা ২৩ মার্চ প্রদানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে, দেশের তফসিলি ব্যাংকগুলোর কর্মকর্তা-কর্মচারী ও অবসরপ্রাপ্ত পেনশনারদের মার্চ মাসের বেতন-ভাতা ২৩ মার্চ প্রদানের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ব্যাংকগুলোকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়ে...

পবিত্র রমজানে ফিলিস্তিনে ইসরাইলের নৃশংসতা ও বিশ্ব সম্প্রদায়ের নীরবতা

Image
পবিত্র রমজানে ফিলিস্তিনে ইসরাইলের নৃশংসতা ও বিশ্ব সম্প্রদায়ের নীরবতা রমজান: শান্তি ও সংযমের মাসে ফিলিস্তিনের আকাশে ধ্বংসের আগুন। দুই দিনে নিহতের সংখ্যা হাজার ছাড়িয়েছে। রমজান মাসের পবিত্রতা বিশ্বজুড়ে মুসলমানদের জন্য আত্মশুদ্ধি, সহমর্মিতা ও শান্তির বার্তা বয়ে আনে। কিন্তু এই মাসেই ফিলিস্তিনি নারী, শিশু ও নিরীহ বেসামরিক মানুষের উপর ইসরাইলের অব্যাহত সামরিক হামলা মানবতাকে লাঞ্ছিত করছে। গাজা ও পশ্চিম তীরে চলছে বোমাবর্ষণ, বাড়িঘর ধ্বংস এবং হত্যাযজ্ঞ—যা আন্তর্জাতিক আইন এবং মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন।   ইসরাইলের সাম্প্রতিক হামলার চিত্রঃ লক্ষ্যহীন আক্রমণ: গাজার আল-শিফা হাসপাতাল, রিফিউজি ক্যাম্প এবং স্কুলে হামলা চালিয়ে শিশুসহ শতাধিক বেসামরিক নাগরিক হতাহত।   নির্বিচারে গ্রেফতার: পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনি যুবকদের রাতের অন্ধকারে তুলে নিয়ে যাওয়া, নির্যাতন ও গুমের অভিযোগ।   অবরুদ্ধ গাজা: বিদ্যুৎ, খাদ্য, পানীয় জল ও ওষুধ সরবরাহ বন্ধ করে মানবিক সংকটকে চরমে তোলা হয়েছে।   মানবাধিকার লঙ্ঘন ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ভূমিকাঃ ইসরাইলি সেনাবাহিনীর এসব কর্মকাণ্ড জেনেভা কনভেনশনসহ যুদ্...

ইফতারের টেবিলে এক মানবিক বার্তা: ড. ইউনুস ও জাতিসংঘ মহাসচিবের ঐতিহাসিক মুহূর্ত

Image
  ইফতারের টেবিলে এক মানবিক বার্তা: ড. ইউনুস ও জাতিসংঘ মহাসচিবের ঐতিহাসিক মুহূর্ত বিশ্ব যখন ধর্মীয় বিভাজন ও সংঘাতের মুখোমুখি, তখন কিছু মানুষ আছেন যারা মানবিকতার আলো ছড়িয়ে দেন। এমনই এক অনন্য মুহূর্ত তৈরি হয়েছে যখন বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনুস ও জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস একসঙ্গে এক লক্ষ রোহিঙ্গা মুসলিমের সঙ্গে ইফতার করেছেন। এই উদ্যোগ কেবল একটি আনুষ্ঠানিকতা ছিল না; বরং এটি আন্তঃধর্মীয় সম্প্রীতির একটি অসাধারণ দৃষ্টান্ত। ড. ইউনুসের আমন্ত্রণে গুতেরেস এই ঐতিহাসিক ইফতারে যোগ দেন এবং তিনি নিজেও সম্মান জানিয়ে রোজা রেখেছিলেন। তার এই সিদ্ধান্ত বিশ্ববাসীর জন্য একটি শক্তিশালী বার্তা বহন করে— মানবতা সবার ওপরে। রোহিঙ্গাদের প্রতি বিশেষ সম্মানঃ প্রফেসর ইউনুস শুধুমাত্র ইফতারের আয়োজনই করেননি, বরং রোহিঙ্গাদের ভাষাগত প্রতিবন্ধকতা দূর করতে চট্টগ্রামের আঞ্চলিক ভাষায় বক্তব্য দেন। এই সংবেদনশীল দৃষ্টিভঙ্গি তার নেতৃত্বের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। একজন নোবেল বিজয়ী অর্থনীতিবিদ হয়েও তিনি কেবল নীতিগত দৃষ্টিভঙ্গিতেই সীমাবদ্ধ থাকেননি; বরং মানুষের হৃদয় ছুঁতে পেরেছেন তাদের নিজস্ব ভাষায়...

বাস্তব জীবনের গল্ল

Image
আমি একজন বিধবা মহিলা। আমার বয়স এখন ৬৬ বছর। দীর্ঘদিন স্কুলে শিক্ষকতা করার পর এখন অবসর জীবন যাপন করছি। আমার একটাই ছেলে, নাম রাজু। ওর বয়স ৪২, থাকে ইংল্যান্ডে। আমার স্বামী যখন মারা যান, তখন আমার বয়স ছিল ৩৬ বছর আর আমার ছেলের ১২। ছেলের কথা ভেবে আমি আর বিয়ে করিনি। রাজুকে আমি একাই বড় করেছি। কখনো কোনো কিছুর অভাব বুঝতে দিইনি ওকে। সবসময় চেয়েছি ওর সব আবদার মেটাতে। ও যেন না ভাবে আমার বাবা থাকলে এই ইচ্ছাটা অপূর্ণ থাকত না। ছেলেকে দেশের সবচাইতে ভালো স্কুল, কলেজ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়িয়েছি। তারপর ও উচ্চশিক্ষার সুযোগ পেয়ে ইংল্যান্ডে চলে গেল। সব খরচ একা হাতে সামলেছি, কারো কাছে হাত পাতিনি আমি। এতকিছুর মাঝে নিজের দিকে একদম খেয়াল করার সুযোগ হয়নি! সবসময় সন্তানের সাফল্য দেখতে চেয়েছি। তার ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল করাই ছিল আমার জীবনের একমাত্র লক্ষ্য। আমাকে সবাই সফল মা বলে। এই নিয়ে আমারও একধরনের চাপা গর্বও আছে। গত সপ্তাহে লাবণী নামে আমার এক পুরোনো বান্ধবীর সাথে দেখা হলো। ওর ছেলে আকাশ আমার ছেলের সাথে একই স্কুলে পড়ত। আকাশের সাথে রাজুর খুব একটা মিল ছিল না। এর কারণ অবশ্য আমি। আমি সারাক্ষণ চাইতাম রাজু শুধুমাত্র যারা ভালো স...

অন্তর্বতিকালীন সারকারের পরিবহন ও সেতু মন্ত্র্রণালয়ের দায়িত্ব পেলেন যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী শেখ মহিউদ্দিন

Image
  বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী পরিবহন বিশেষজ্ঞ শেখ মইনউদ্দিনকে বিশেষ সহকারী হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন। তিনি সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করবেন। শেখ মইনউদ্দিনের পেশাগত অভিজ্ঞতা: বর্তমান পদ: ক্যালিফোর্নিয়া ডিপার্টমেন্ট অব ট্রান্সপোর্টেশনের সেফটি ও অপারেশনের প্রধান। পূর্ববর্তী পদ: ২০১৬ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত ক্যালিফোর্নিয়া ডিপার্টমেন্ট অব ট্রান্সপোর্টেশনের প্রোগ্রাম ও প্রকল্প ব্যবস্থাপনা বিভাগে প্রকল্প ব্যবস্থাপক। অভিজ্ঞতা: ২৫ বছরেরও বেশি সময় ধরে লস অ্যাঞ্জেলেসের সরকারি খাতে বহু বিলিয়ন ডলারের অবকাঠামো প্রকল্পের নেতৃত্ব দিয়েছেন। শিক্ষাগত যোগ্যতা: স্নাতক: সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং, লুইজিয়ানা বিশ্ববিদ্যালয়, লাফায়েত। স্নাতকোত্তর: সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং, ক্যালিফোর্নিয়া স্টেট ইউনিভার্সিটি। পিএইচডি: সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং, ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া, লস অ্যাঞ্জেলেস (ইউসিএলএ)। পেশাগত সংগঠনে সম্পৃক্ততা: শেখ মইনউদ্দিন আমেরিকান অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশি ইঞ্জিনিয়ার্স অ্যান্ড আর্কিটেক্টসের (এএব...

গাজা পুনর্গঠনের জন্য মিশরের উদ্যোগে, যুক্তরাষ্ট্র ওইসরায়েলের সমালোচনা

Image
গাজা উপত্যকার সাম্প্রতিক সংঘর্ষ ও ধ্বংসযজ্ঞের পর, এর পুনর্গঠনের জন্য আরব নেতারা মিসরের উদ্যোগে একটি সমন্বিত পরিকল্পনা গ্রহণ করেছেন। এই পরিকল্পনার লক্ষ্য হলো গাজার ফিলিস্তিনি জনগণকে তাদের নিজ ভূমিতে রেখেই পুনর্গঠন কার্যক্রম পরিচালনা করা, যা তাদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা পুনঃপ্রতিষ্ঠায় সহায়তা করবে। মিসরের প্রস্তাবনা: মিসরের প্রেসিডেন্ট আব্দেল ফাত্তাহ আল-সিসির নেতৃত্বে গৃহীত এই পরিকল্পনায় গাজার অবকাঠামো পুনর্নির্মাণ, মানবিক সহায়তা প্রদান এবং ধ্বংসপ্রাপ্ত এলাকা পুনর্গঠনের জন্য ৫৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বাজেট প্রস্তাব করা হয়েছে। এই পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী পাঁচ বছরে নতুন আবাসন, বিমানবন্দর, বন্দর, শিল্প এলাকা, হোটেল ও পার্ক নির্মাণের মাধ্যমে প্রায় ৩ মিলিয়ন মানুষের বসবাসের উপযোগী পরিবেশ তৈরি করা হবে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের প্রতিক্রিয়া: মিসরের এই প্রস্তাবকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল সমালোচনা করেছে। হোয়াইট হাউসের জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিলের মুখপাত্র ব্রায়ান হিউজ এই প্রস্তাবকে বাস্তবতা বিবর্জিত বলে অভিহিত করেছেন। তিনি উল্লেখ করেছেন যে গাজা বর্তমানে বসবাসের অনুপযোগী, এবং সেখানে মানবিকভাবে জীবনযাপন কর...

দেশের বৃহত্তর স্বার্থে ইসলামি দলগুলোর ঐক্য প্রয়োজন

Image
  দেশের বৃহত্তর স্বার্থে ইসলামি দলগুলোর ঐক্য প্রয়োজন বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ইসলামি দলগুলোর ভূমিকা বরাবরই গুরুত্বপূর্ণ। তবে নানা মতানৈক্য ও বিভক্তির কারণে এই দলগুলো প্রত্যাশিত প্রভাব রাখতে ব্যর্থ হচ্ছে। অথচ দেশের বৃহত্তর স্বার্থে, ইসলামি মূল্যবোধের ভিত্তিতে একটি ন্যায়ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠার জন্য, এবং জাতীয় স্বার্থ সংরক্ষণে তাদের ঐক্যবদ্ধ হওয়া জরুরি। ইসলামি দলগুলোর বিভক্তির কারণ ১. আদর্শিক পার্থক্য – যদিও সকল ইসলামি দল ইসলামের বিধান অনুসরণ করার কথা বলে, তাদের মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে রাজনৈতিক কৌশল ও দৃষ্টিভঙ্গিতে। ২. নেতৃত্বের দ্বন্দ্ব – বেশিরভাগ ইসলামি দল নেতৃত্ব নিয়ে বিভক্ত হয়ে পড়ে, যার ফলে ঐক্যের পথে বাধা সৃষ্টি হয়। 3. রাজনৈতিক স্বার্থ – কিছু ইসলামি দল বৃহত্তর রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে জোট গড়ে তোলে, যা তাদের মধ্যে বিভেদ তৈরি করে। 4. আন্তর্জাতিক প্রভাব – বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক রাজনৈতিক বাস্তবতা ইসলামি দলগুলোর মধ্যে মতানৈক্যের সৃষ্টি করে। ঐক্যের প্রয়োজনীয়তা ইসলামি মূল্যবোধ রক্ষা – বর্তমান সমাজে নৈতিক অবক্ষয়ের বিরুদ্ধে ইসলামি দলগুলো সম্মিলিতভাবে কাজ করলে সমাজে ইতিবাচক পর...

সূরা আল-বাকারার শানে নুযুল (প্রকাশের প্রেক্ষাপট)

Image
  সূরা আল-বাকারার শানে নুযুল (প্রকাশের প্রেক্ষাপট) সূরা আল-বাকারা (البقرة) হলো কুরআনের দ্বিতীয় এবং সবচেয়ে দীর্ঘতম সূরা, যার আয়াত সংখ্যা ২৮৬ । এটি মদিনায় অবতীর্ণ হয়েছে এবং ইসলামিক আইনের বিভিন্ন দিক ও মুসলমানদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিধান বর্ণনা করে। শানে নুযুল (প্রকাশের কারণ ও প্রেক্ষাপট): ১. মদিনায় নবীজীর আগমন ও মুসলিম সম্প্রদায়ের প্রতিষ্ঠা: রাসূলুল্লাহ (সা.) যখন মদিনায় হিজরত করেন, তখন মুসলিম সমাজকে সংগঠিত ও পরিচালনার প্রয়োজন হয়। এই সূরায় সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও ধর্মীয় বিধান দেওয়া হয়েছে। ২. ইহুদি ও মুনাফিকদের সঙ্গে মুসলমানদের সম্পর্ক: মদিনায় বসবাসরত ইহুদি সম্প্রদায় আল্লাহর একত্ববাদ জানলেও নবী মুহাম্মদ (সা.)-কে মানতে অস্বীকৃতি জানায়। তারা মুসলমানদের বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করত, তাই এই সূরায় তাদের কপটতা ও অতীত ভুলগুলো তুলে ধরা হয়েছে। ৩. নতুন রাষ্ট্রের আইন ও বিধান প্রবর্তন: ইসলামী শরীয়াহর অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিধান, যেমন—নামাজ, রোজা, জাকাত, হজ, কিবলা পরিবর্তন, যুদ্ধনীতি, সুদ নিষেধ, বিবাহ-তালাক ইত্যাদি এখানে এসেছে। ৪. বনি ইসরাইলের ইতিহাস ও শিক্ষণীয় বার্তা: বনি ই...

যতদিন খুনি হাসিনার বিচার হবেনা, ততদিন কোন নির্বাচন নয়- সারজিস আলম

Image
  যতদিন খুনি হাসিনার বিচার হবেনা, ততদিন কোন নির্বাচন নয়-  সারজিস আলম বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে যেখানে জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার হুমকির মুখে। একদলীয় শাসনব্যবস্থা কায়েমের জন্য রাষ্ট্রযন্ত্রকে ব্যবহার করে বিরোধী মতের কণ্ঠরোধ করা হচ্ছে। এমনকি, যারা সুষ্ঠু নির্বাচনের দাবি তুলছে, তারাও নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। এই অবস্থায়, দেশের সাধারণ জনগণ এবং রাজনৈতিক সচেতন ব্যক্তিরা একমত—যতদিন পর্যন্ত ক্ষমতাসীন স্বৈরাচারী সরকার, বিশেষ করে শেখ হাসিনা, তার অপশাসনের জন্য বিচারের সম্মুখীন না হবে, ততদিন কোনো নির্বাচন হতে দেওয়া যাবে না। কেন হাসিনার বিচার প্রয়োজন? ১. গণহত্যা ও নিপীড়ন সরকারবিরোধী আন্দোলন দমন করতে গিয়ে হাজারো বিরোধী দলের নেতাকর্মীকে হত্যা, গুম ও নির্যাতন করা হয়েছে। র‍্যাব, পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থাকে ব্যবহার করে বিচারবহির্ভূত হত্যা ও গুমের সংস্কৃতি চালু করা হয়েছে। ভোট ডাকাতি ও নির্বাচনী কারচুপি ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালের জাতীয় নির্বাচন ছিল নজিরবিহীন ভোট ডাকাতির উদাহরণ। দিনের ভোট রাতে করা, ইভিএমের মাধ্যমে কারচুপি, কেন্দ্র দখল করে জাল ভোট দেওয়া—এসব এখন স...

রাস্তার নিয়ন্ত্রকরা যদি নিরাপদ না থাকে, জনগণ কতটুকু নিরাপদ?

Image
  রাস্তার নিয়ন্ত্রকরা যদি নিরাপদ না থাকে, জনগণ কতটুকু নিরাপদ? সম্প্রতি একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে, যেখানে দেখা যাচ্ছে, পুলিশের একটি পিকআপ ভ্যান নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সজোরে একটি গাছের সঙ্গে ধাক্কা লেগেছে। এ ধরনের দুর্ঘটনা আমাদের সড়ক ব্যবস্থার বর্তমান চিত্রকে আরও গভীরভাবে চিন্তা করার সুযোগ করে দেয়। প্রশ্ন হচ্ছে, যারা জনগণের সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্বে রয়েছে, যদি তারাই এমন অনিরাপদ অবস্থার শিকার হয়, তাহলে সাধারণ নাগরিকদের অবস্থা কেমন হতে পারে? সড়ক দুর্ঘটনার ভয়াবহতা বাংলাদেশে সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিদিনকার বাস্তবতা হয়ে দাঁড়িয়েছে। সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পর্যন্ত কেউই নিরাপদ নয়। এক পরিসংখ্যান বলছে, দেশে প্রতি বছর হাজার হাজার মানুষ সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারায়, আহত হয় আরও অনেকে। এর পেছনে রয়েছে বেপরোয়া গাড়ি চালানো, ট্রাফিক আইন না মানা, দুর্বল অবকাঠামো, এবং চালকদের প্রশিক্ষণের অভাব। দায়িত্বশীলদের দুর্ঘটনা—একটি অশনিসংকেত যারা সড়কের শৃঙ্খলা রক্ষা করে, তাদের গাড়ি যদি এমনভাবে নিয়ন্ত্রণ হারায়, তবে এটি সাধারণ জনগণের জন্য একটি ভয়াবহ সংকেত। কারণ, আইনশৃঙ্খলা বাহি...