যতদিন খুনি হাসিনার বিচার হবেনা, ততদিন কোন নির্বাচন নয়- সারজিস আলম
যতদিন খুনি হাসিনার বিচার হবেনা, ততদিন কোন নির্বাচন নয়- সারজিস আলম
বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে যেখানে জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার হুমকির মুখে। একদলীয় শাসনব্যবস্থা কায়েমের জন্য রাষ্ট্রযন্ত্রকে ব্যবহার করে বিরোধী মতের কণ্ঠরোধ করা হচ্ছে। এমনকি, যারা সুষ্ঠু নির্বাচনের দাবি তুলছে, তারাও নির্যাতনের শিকার হচ্ছে।
এই অবস্থায়, দেশের সাধারণ জনগণ এবং রাজনৈতিক সচেতন ব্যক্তিরা একমত—যতদিন পর্যন্ত ক্ষমতাসীন স্বৈরাচারী সরকার, বিশেষ করে শেখ হাসিনা, তার অপশাসনের জন্য বিচারের সম্মুখীন না হবে, ততদিন কোনো নির্বাচন হতে দেওয়া যাবে না।
কেন হাসিনার বিচার প্রয়োজন?
১. গণহত্যা ও নিপীড়ন
সরকারবিরোধী আন্দোলন দমন করতে গিয়ে হাজারো বিরোধী দলের নেতাকর্মীকে হত্যা, গুম ও নির্যাতন করা হয়েছে। র্যাব, পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থাকে ব্যবহার করে বিচারবহির্ভূত হত্যা ও গুমের সংস্কৃতি চালু করা হয়েছে।
-
ভোট ডাকাতি ও নির্বাচনী কারচুপি
২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালের জাতীয় নির্বাচন ছিল নজিরবিহীন ভোট ডাকাতির উদাহরণ। দিনের ভোট রাতে করা, ইভিএমের মাধ্যমে কারচুপি, কেন্দ্র দখল করে জাল ভোট দেওয়া—এসব এখন সাধারণ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। জনগণের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছে। -
দুর্নীতি ও লুটপাট
বাংলাদেশ ব্যাংকসহ বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠানে নজিরবিহীন দুর্নীতি হয়েছে। সরকার-ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিরা হাজার হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার করেছে, অথচ সাধারণ মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাস করছে। -
স্বাধীন মতপ্রকাশের বাধা
ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনসহ বিভিন্ন দমনমূলক আইন ব্যবহার করে মুক্তচিন্তার মানুষদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে। সাংবাদিকদের গ্রেফতার, সংবাদপত্র বন্ধ করা, বিরোধী দলের প্রচার মাধ্যম নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে।
কি করা উচিত?
বাংলাদেশের জনগণকে এখন রুখে দাঁড়াতে হবে। দাবি একটাই—যতদিন খুনি হাসিনার বিচার না হবে, ততদিন কোনো নির্বাচন নয়!
- নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন হতে হবে।
- রাজনৈতিক বন্দিদের মুক্তি দিতে হবে।
- ভোটাধিকার ফিরিয়ে আনতে হবে।
- দুর্নীতিবাজ ও স্বৈরাচারী শাসকদের বিচারের আওতায় আনতে হবে।
এখন সময় প্রতিবাদের, প্রতিরোধের। জনগণের শক্তির চেয়ে বড় কিছু নেই। যদি সবাই একসাথে রাস্তায় নামে, তাহলে একনায়কতন্ত্রের পতন অনিবার্য!
(বি.দ্র.: এই ব্লগ পোস্টটি একটি মতামতনির্ভর লেখা এবং কোনো বিশেষ ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর প্রতি বিদ্বেষ ছড়ানোর উদ্দেশ্যে নয়।)

Comments
Post a Comment