Posts

Showing posts from April, 2026

১৯৯১ সালের ২৯ এপ্রিলের ঘূর্ণিঝড়—বাংলাদেশের উপকূলীয় ইতিহাসে এক কালো অধ্যায়

Image
  ১৯৯১ সালের ২৯ এপ্রিলের ঘূর্ণিঝড়—বাংলাদেশের উপকূলীয় ইতিহাসে এক কালো অধ্যায় ১৯৯১ সালের ২৯ এপ্রিল গভীর রাতে বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্ব উপকূলে আঘাত হানে ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড়। এটি শুধু একটি প্রাকৃতিক দুর্যোগ ছিল না—এটি ছিল উপকূলজুড়ে মৃত্যু, ধ্বংস, বিচ্ছিন্নতা ও মানবিক বিপর্যয়ের এক মহাবিপর্যয়। বিশেষ করে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, সন্দ্বীপ, মহেশখালী, কুতুবদিয়া, পেকুয়া, বাঁশখালী, আনোয়ারা ও পার্শ্ববর্তী দ্বীপাঞ্চল প্রায় সম্পূর্ণ বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। ঘূর্ণিঝড়ের আবহাওয়াগত বৈশিষ্ট্য উৎপত্তি: বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট গভীর নিম্নচাপ থেকে শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নেয়। আঘাত হানার সময়: ২৯ এপ্রিল ১৯৯১, মধ্যরাতের পর। আন্তর্জাতিকভাবে এটি  ঘূর্ণিঝড় ০২বি (Cyclone 02B)  নামে পরিচিত হলেও অনেকে একে  'ম্যারি অ্যান' (Marian)  বা  'গোর্কি'  নামেও ডেকে থাকেন সর্বোচ্চ বাতাসের গতি: ঘণ্টায় প্রায় ২৪০–২৫০ কিলোমিটার। ঘূর্ণিঝড়ের ধরন: ক্যাটাগরি ৫ সমতুল্য সুপার সাইক্লোন। জলোচ্ছ্বাস: প্রায় ১০–২০ ফুট (কিছু স্থানে আরও বেশি)। সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা চট্টগ্রাম উপকূল: পতেঙ্গা আনোয়া...

আর্টিমিস ২ কি সত্যিই পৃথিবী ছেড়েছিল?

Image
🚀 আর্টিমিস ২ কি সত্যিই পৃথিবী ছেড়েছিল? চাঁদের পথে এক বিস্ময়কর কক্ষপথের বিজ্ঞান চার নভোচারী, এক ঐতিহাসিক যাত্রা, আর মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই চাঁদ ঘুরে আবার পৃথিবীতে ফেরা—Artemis II মিশনটি যেন বিজ্ঞান আর বিস্ময়ের এক অনন্য সমন্বয়। কিন্তু এখানে একটি বড় প্রশ্ন উঠে আসে— 👉 পৃথিবী যখন সূর্যের চারপাশে প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ৩০ কিমি বেগে ছুটছে, তখন নভোযানটি কীভাবে ফিরে এসে ঠিক পৃথিবীকেই খুঁজে পেল? 🌍 পৃথিবী কি “এগিয়ে যায়নি”? ৯ দিনে পৃথিবী সূর্যের চারপাশে প্রায় ২ কোটি কিলোমিটারের বেশি পথ অতিক্রম করে । অন্যদিকে, আর্টিমিস ২-এর মোট ভ্রমণপথ তুলনামূলকভাবে অনেক কম। তাহলে কি নভোযানটি “পিছিয়ে” পড়ার কথা? 👉 না—কারণ শুরু থেকেই নভোযানটির মধ্যে পৃথিবীর সেই একই গতিশক্তি ছিল। ⚙️ মূল রহস্য: গতির উত্তরাধিকার এখানে কাজ করে Newton's First Law of Motion (জড়তার সূত্র)। কোনো বস্তু চলতে থাকলে, বাহ্যিক বল না থাকলে সেটি সেই গতিতেই চলতে থাকবে আর্টিমিস ২ উৎক্ষেপণের আগেই পৃথিবীর সঙ্গে সূর্যকে প্রদক্ষিণ করছিল উৎক্ষেপণের পর এটি শুধু পৃথিবীর চারপাশের কক্ষপথ থেকে বের হয়ে চাঁদের দিকে মোড় নেয় , কিন্তু সূর্যকে ...

জব্বরের বলিখেলা: ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সাংস্কৃতিক গুরুত্ব

Image
📜 জব্বরের বলিখেলা: ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সাংস্কৃতিক গুরুত্ব 📍 ভূমিকা চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক লালদিঘী ময়দান ে প্রতি বছর ২৫ এপ্রিল অনুষ্ঠিত হয় শতবর্ষী ঐতিহ্যবাহী “জব্বরের বলিখেলা”। এটি শুধু একটি ক্রীড়া প্রতিযোগিতা নয়; বরং বাঙালির সংগ্রাম, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের এক জীবন্ত প্রতীক। বর্তমানে এটি চট্টগ্রামের অন্যতম বৃহৎ লোকজ উৎসব হিসেবে প্রতিষ্ঠিত। 🏛️ উৎপত্তি ও সূচনা “বলি খেলা” মূলত একটি প্রাচীন কুস্তি বা গ্র্যাপলিং-ভিত্তিক খেলা, যেখানে শক্তি, কৌশল ও সহনশীলতার পরীক্ষা হয়। উনবিংশ শতাব্দীর শেষদিকে (প্রায় ১৮৭৯ সালে) কাদের বক্সো নামে এক জমিদার প্রথম এই ধরনের কুস্তির আয়োজন করেন। পরবর্তীতে বিংশ শতাব্দীর শুরুতে চট্টগ্রামের ব্যবসায়ী আব্দুল জব্বার সওদাগর এই খেলাকে জনপ্রিয় করে তোলেন। ⚔️ ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের সঙ্গে সম্পর্ক জব্বরের বলিখেলার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো এর রাজনৈতিক ও ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট। ১৯০৭-১৯০৯ সালের মধ্যে এই খেলার আনুষ্ঠানিক সূচনা হয়। এর উদ্দেশ্য ছিল তরুণদের শারীরিকভাবে শক্তিশালী করা, যাতে তারা ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে লড়াই করতে সক্ষম হয়। অর্থাৎ, এটি ছিল এক ধরনের “শারীরিক প্রস্...