জরিপের ফলাফলে চাকরি হারানো! "মানসিক চাপে আছেন?" ‘হ্যাঁ’ বলার পর চাকরি গেল শতাধিক কর্মীর!
জরিপের ফলাফলে চাকরি হারানো! "মানসিক চাপে আছেন?" ‘হ্যাঁ’ বলার পর চাকরি গেল শতাধিক কর্মীর!
বর্তমান কর্মজীবনের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হল মানসিক চাপ। কর্মক্ষেত্রে চাপ মোকাবিলার জন্য অনেক সংস্থা বিভিন্ন উদ্যোগ নেয়। তবে, ভারতের নয়ডা ভিত্তিক বিউটি সার্ভিস অ্যাপ "ইয়েস ম্যাডাম" সম্প্রতি এমন একটি সিদ্ধান্ত নিয়েছে যা অনেকের কাছে বিতর্কিত এবং অমানবিক বলে মনে হয়েছে।
স্ট্রেস সার্ভে থেকে চাকরিচ্যুতি — ঘটনা কী?
সম্প্রতি "ইয়েস ম্যাডাম" তার কর্মীদের জন্য একটি মানসিক স্বাস্থ্য জরিপ পরিচালনা করে। এই সার্ভের উদ্দেশ্য ছিল কর্মীদের মানসিক চাপের মাত্রা নির্ধারণ করা। তবে, কর্মীদের কাছে এটি ছিল একটি স্বাভাবিক কর্মপরিকল্পনার অংশ।
কিন্তু, এই সার্ভের ফলাফল প্রকাশের পর, একের পর এক কর্মীদের চাকরিচ্যুত করার ঘোষণা আসে। প্রতিবেদনে জানা যায়, শতাধিক কর্মীকে বরখাস্ত করা হয়েছে। বিশেষভাবে লক্ষ্যণীয় বিষয় হল, যেসব কর্মী নিজেদের মানসিক চাপে আছেন বলে সার্ভেতে উল্লেখ করেছিলেন, তারাই বরখাস্তের তালিকায় পড়েন।
কীভাবে জানানো হয় বরখাস্তের কথা?
ইয়েস ম্যাডামের এইচআর ম্যানেজার থেকে একটি ই-মেইল পাঠানো হয় কর্মীদের কাছে। ই-মেইলটিতে বলা হয়,
"আমরা কর্মক্ষেত্রে চাপ সম্পর্কে আপনার অনুভূতি বোঝার জন্য একটি জরিপ পরিচালনা করেছি। আপনারা অনেকেই আপনাদের উদ্বেগ শেয়ার করেছেন। একটি স্বাস্থ্যকর এবং সহায়ক কাজের পরিবেশ গড়ে তোলার জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ একটি সংস্থা হিসেবে, আমরা প্রতিক্রিয়াটি যত্নসহকারে বিবেচনা করেছি। কর্মক্ষেত্রে কেউ যাতে চাপে না থাকে তা নিশ্চিত করার জন্য, আমরা এমন কর্মচারীদের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি যারা উল্লেখযোগ্য কর্মক্ষেত্রে চাপের কথা জানিয়েছে।"
এই বার্তাটি শুধু কর্মীদের জন্য নয়, ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের কাছেও বিস্ময়ের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
কর্মীদের প্রতিক্রিয়া কী ছিল?
একজন সাবেক কর্মী হতাশা প্রকাশ করে বলেন,
"প্রথমে একটি এলোমেলো জরিপ পরিচালনা করেছেন, তারপর আমাদের চাকরি থেকে ছাঁটাই করলেন। চাকরি হারিয়ে আমরা মানসিক চাপ অনুভব করছি। শুধু আমিই নয়, আরও ১০০ জনকেও বরখাস্ত করা হয়েছে।"
এই বক্তব্য ইঙ্গিত দেয়, যারা মানসিক চাপ নিয়ে কথা বলেছিলেন, তারা এখন আরও বড় চাপে পড়েছেন। কিছু কর্মী এই ই-মেইলের স্ক্রিনশট সামাজিক মাধ্যমে শেয়ার করেছেন, যা দ্রুত ভাইরাল হয়েছে।
সমালোচনার ঝড়
সামাজিক মাধ্যমে সাধারণ মানুষ, বিশেষজ্ঞ ও মানবাধিকার সংস্থাগুলো এ ধরনের সিদ্ধান্তকে "অমানবিক" বলে আখ্যা দিয়েছেন। নেটিজেনদের কেউ মন্তব্য করেছেন,
"মানসিক চাপ নিয়ে কথা বলার শাস্তি চাকরি হারানো হতে পারে, এটা অকল্পনীয়!"
আরেকজন লিখেছেন,
"আপনারা কর্মীদের মানসিক চাপের মাত্রা জানার জন্য একটি সার্ভে করেন, এবং যারা নিজেদের উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন, তাদেরই চাকরি থেকে বরখাস্ত করেন। এই কর্মীদের অবস্থা এখন কেমন হবে?"
এই সিদ্ধান্ত কি ন্যায়সঙ্গত?
এমন সিদ্ধান্তের পেছনে সংস্থাটির মূল উদ্দেশ্য কী ছিল, তা স্পষ্ট নয়। কিছু বিশেষজ্ঞের মতে, হয়তো কোম্পানিটি তার কর্মী সংখ্যার ভারসাম্য রাখতে চেয়েছিল এবং সার্ভে ছিল কেবল ছাঁটাইয়ের একটি কৌশল। অন্যদিকে, অনেকে বলছেন, এটি মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ে খোলামেলা আলোচনা করার বিপরীতে একটি ভুল বার্তা দেয়।
মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে কাজ করা বিশেষজ্ঞদের মতে, কর্মক্ষেত্রে মানসিক চাপ একটি স্বাভাবিক বিষয় এবং কর্মীদের মানসিক স্বাস্থ্যকে গুরুত্ব না দিয়ে তাদের চাকরি থেকে বাদ দেওয়া একটি অবিবেচক পদক্ষেপ।
পাঠকের প্রতিক্রিয়া: আপনার মতামত কী?
এই ঘটনা আমাদের সামনে বড় একটি প্রশ্ন তুলে ধরে — কর্মক্ষেত্রে মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে আলোচনা কি নিরাপদ? কর্মীদের চাপ ও উদ্বেগ দূর করার পরিবর্তে চাকরিচ্যুতির মতো কঠিন সিদ্ধান্ত নেওয়া কি প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য দীর্ঘমেয়াদে লাভজনক? এই ধরনের সিদ্ধান্ত কি কর্মক্ষেত্রে "ভয়ের পরিবেশ" তৈরি করবে?
আমরা আপনাদের মতামত জানতে চাই। আপনি কী মনে করেন, "ইয়েস ম্যাডাম"-এর এই সিদ্ধান্ত সঠিক ছিল? আপনার কাজের জায়গায় কি এমন ধরনের কোন সার্ভে হয়েছে? মন্তব্যে আমাদের জানান।

Comments
Post a Comment