৩ বছর ৭ মাস পর সাবেক এসপি বাবুল আক্তারের জামিন: আলোচিত মিতু হত্যা মামলার নতুন মোড়?
৩ বছর ৭ মাস পর সাবেক এসপি বাবুল আক্তারের জামিন: আলোচিত মিতু হত্যা মামলার নতুন মোড়?
"বাবুল আক্তারের মুক্তিতে বাধা নেই"—এমনই নির্দেশ দিয়েছেন বাংলাদেশের সুপ্রিম কোর্টের চেম্বার আদালত। স্ত্রী মাহমুদা খানম মিতু হত্যার মামলায় প্রায় তিন বছর সাত মাস কারাভোগের পর বাবুল আক্তার ছয় মাসের অন্তর্বর্তীকালীন জামিন পেয়েছেন।
✅চেম্বার আদালতের রায়ঃ
২০২৪ সালের ৪ ডিসেম্বর আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতি মো. রেজাউল হকের নেতৃত্বাধীন আদালত এই আদেশ দেন। এর আগে ১ ডিসেম্বর মিতুর বাবা বাবুল আক্তারের জামিন স্থগিতের জন্য আবেদন করেছিলেন। কিন্তু আদালত বাবুল আক্তারের জামিন বহাল রাখেন।
✅হাইকোর্টের আদেশঃ
২৭ নভেম্বর বিচারপতি মো. আতোয়ার রহমান ও বিচারপতি আলী রেজার নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চ বাবুল আক্তারকে অন্তর্বর্তীকালীন ছয় মাসের জামিন মঞ্জুর করেন। বাবুল আক্তারের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির আদালতে যুক্তি দেন যে তার মক্কেল দীর্ঘদিন কারাগারে আছেন এবং এই মামলায় তার জামিন পাওয়া ন্যায়সংগত।
✅মুক্তির অর্থ কী?
বাবুল আক্তার এই মামলার অন্যতম প্রধান আসামি হলেও, জামিনের মাধ্যমে নতুন করে আলোচনায় এসেছেন। এর মধ্যে পরিবারের পক্ষ থেকে বিভিন্ন সময়ে ভিন্ন অভিযোগ এবং প্রমাণপত্র উপস্থাপন করা হয়েছে। তবে বাবুল আক্তারের জামিন মামলাটির বিচার প্রক্রিয়ায় নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে।
✅সামাজিক প্রতিক্রিয়াঃ
মিতু হত্যাকাণ্ড বাংলাদেশের অন্যতম আলোচিত অপরাধ। এ মামলায় বাবুল আক্তারের সম্পৃক্ততার অভিযোগ এবং তার মুক্তি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। কেউ এই জামিনকে ন্যায়বিচারের একটি ধাপ হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ মামলার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবিতে সরব।
বাবুল আক্তারের জামিন ও মুক্তি আলোচিত মিতু হত্যা মামলার তদন্ত ও বিচার প্রক্রিয়ায় নতুন দৃষ্টিভঙ্গি উন্মোচন করবে বলে মনে করা হচ্ছে। তবে এ মামলার চূড়ান্ত রায় কীভাবে প্রভাব ফেলবে, তা সময়ই বলে দেবে।
উল্লেখ্য ২০১৬ সালের ৫ জুন ছেলেকে স্কুলবাসে তুলে দিতে যাওয়ার পথে চট্টগ্রাম নগরের জিইসি এলাকায় বাবুলের স্ত্রী মাহমুদাকে কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যা করা হয়।
পরেরদিন বাবুল আক্তার বাদী হয়ে নগরের পাঁচলাইশ থানায় হত্যা মামলা করেন। তদন্ত শেষে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) ২০২১ সালের ১২ মে এ মামলায় চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেয়। একই দিন বাবুলের শ্বশুর সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা মোশাররফ বাদী হয়ে পাঁচলাইশ থানায় হত্যা মামলা করেন। এ মামলায় বাবুলসহ আটজনকে আসামি করা হয়।

Comments
Post a Comment