নির্যাতন ও গুমের বিভীষিকা: ইমাম মেহেদী হাসান ডলার-এর অভিজ্ঞতা
নির্যাতন ও গুমের বিভীষিকা: ইমাম মেহেদী হাসান ডলার-এর অভিজ্ঞতা
ইমাম মেহেদী হাসান ডলার, ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়ার একজন প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী, তাঁর ভয়াবহ গুম ও নির্যাতনের অভিজ্ঞতা শেয়ার করেছেন। ২০২১ সালের ৬ নভেম্বর, মেহেদী হাসানকে র্যাব ও ভারতীয় স্পেশাল টাস্কফোর্স (এসটিএফ) যৌথভাবে অপহরণ করে। সে সময় তিনি সাদাপোশাকধারী তিনজন ব্যক্তির হাতে প্রাইভেটকারে জোরপূর্বক তুলে নেওয়া হয়েছিলেন, যারা নিজেদের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য হিসেবে পরিচয় দিয়েছিলেন।
গুমের বিভীষিকা: ১৭৪ দিন ধরে চলা নির্যাতনঃ
মেহেদী হাসান জানাচ্ছেন, গুমের পর প্রথম দিকে তাকে এক ছোট, অন্ধকার ও স্যাঁতসেঁতে ঘরে আটকে রাখা হয়েছিল, যেখানে খাবার বা বাথরুমের সময়ও ছিল খুব সীমিত। শীতের দিনে এক টুকরা কম্বলও দেওয়া হয়নি, আর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন ছিল অবর্ণনীয়। বন্দি থাকার সময় তার নামাজ পড়তে বা অজু করার কোনো সুযোগও দেওয়া হয়নি। প্রতিদিন তাকে শারীরিক নির্যাতন সহ্য করতে হত, তাও একসময় একাধিক বন্দি ছিল তার আশপাশে। সেই ঘরটিকে মেহেদী "নরকের যন্ত্রণার মতো" বলেও উল্লেখ করেছেন।
ভারতের হাতে তুলে দেওয়া: একটি বিভীষিকা
১৭৪ দিন ধরে গুমের পর, মেহেদী হাসানকে র্যাব সদস্যরা বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তের দিকে নিয়ে যায়। সেখানে তাকে ভারতীয় এসটিএফ-এর হাতে তুলে দেওয়া হয়, যদিও তিনি কখনো ভারতীয় মাটিতে পা রাখেননি। তাকে অবৈধ অনুপ্রবেশকারী হিসেবে আটক করে, ভারতীয় পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এর পর তাকে দমদম জেলে পাঠানো হয়, যেখানে চার মাস অমানবিক কষ্ট সহ্য করতে হয়েছে।
মুক্তির পর: বাড়িতে ফেরার যাত্রাঃ
চতুর্থ মাসে, ভারতীয় প্রশাসন মেহেদী হাসানকে মুক্তি দেয় এবং বিএসএফ সদস্যরা তাকে বাংলাদেশের মেহেরপুর মুজিবনগর সীমান্ত দিয়ে পুশব্যাক করে। সীমান্ত পার হওয়ার পর তিনি তার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং ২০২২ সালের ২৮ আগস্ট দীর্ঘ অপেক্ষার পর বাড়িতে ফিরেন।
এই কাহিনীর মাধ্যমে ইমাম মেহেদী হাসান ডলার তাঁর ভয়াবহ অভিজ্ঞতা ও নির্যাতনের কথা তুলে ধরেছেন, যা শুধু তার জন্যই নয়, বরং এ ধরনের মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে সবার জন্য একটি সতর্কবার্তা।

Comments
Post a Comment