গ্রামীণ ব্যাংকের লাভ-লোকসানের হিসাব ও বণ্টন পদ্ধতি গ্রামীণ ব্যাংক একটি
গ্রামীণ ব্যাংকের লাভ-লোকসানের হিসাব ও বণ্টন পদ্ধতি
গ্রামীণ ব্যাংক একটি মাইক্রোফাইন্যান্স প্রতিষ্ঠান যা গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের সহায়তায় কাজ করে। এর লাভ-লোকসান বণ্টনের পদ্ধতি এবং এর সুবিধাভোগীদের বিবরণ নিম্নরূপ:
লাভ-লোকসান বণ্টন পদ্ধতি
-
লাভের উৎস:
- ঋণের সুদ থেকে প্রাপ্ত আয়।
- অন্যান্য বিনিয়োগ কার্যক্রম থেকে অর্জিত আয়।
-
লাভ বণ্টন:
- গ্রামীণ ব্যাংকের মালিকানার একটি বড় অংশ (৯৭%) ঋণগ্রহীতা সদস্যদের, এবং বাকি ৩% সরকারের।
- লাভের বড় অংশ ব্যাংকের সদস্যদের মধ্যে লভ্যাংশ হিসেবে বণ্টন করা হয়।
- শেয়ার মালিকরা, যাদের অধিকাংশই গ্রামীণ নারীরা, তাদের শেয়ার অনুপাতে লভ্যাংশ পান।
-
লোকসান হলে:
- যদি ব্যাংকের কোনো বছর লোকসান হয়, সেটি ব্যাংকের রিজার্ভ তহবিল থেকে পূরণ করার চেষ্টা করা হয়।
- দীর্ঘমেয়াদী লোকসানের ক্ষেত্রে সদস্যদের লভ্যাংশ কমিয়ে দেওয়া হতে পারে।
সুবিধাভোগীরা
-
প্রধান সুবিধাভোগী:
- গ্রামীণ ব্যাংকের সদস্যরা, যারা মূলত গ্রামের দরিদ্র নারী।
- সদস্যরা ক্ষুদ্র ঋণ গ্রহণের মাধ্যমে ব্যবসা বা আয়-উৎপাদনমূলক কাজ শুরু করতে পারেন।
-
শেয়ারধারী সদস্যরা:
- শেয়ার মালিক সদস্যরা ব্যাংকের মুনাফা থেকে লভ্যাংশ পান।
-
স্থানীয় জনগোষ্ঠী:
- গ্রামীণ ব্যাংকের ঋণ ব্যবহার করে সদস্যরা তাদের জীবনমান উন্নত করতে পারে, যা তাদের পরিবারের পাশাপাশি স্থানীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে।
-
সরকার:
- সরকার ব্যাংকের শেয়ার অনুপাতে লাভ পায়, যা সরকারি কোষাগারে যোগ হয়।
গ্রামীণ ব্যাংকের মডেলটি "সামাজিক ব্যবসার" একটি উদাহরণ, যেখানে লাভ জনগণের মধ্যে পুনরায় বিতরণ করা হয় এবং আর্থিক ক্ষমতায়নে ভূমিকা রাখে।

Comments
Post a Comment