বেঁচে আছি এটাই আসলে আশ্চর্য! কিন্তু উপায় কী?

বেঁচে আছি এটাই আসলে আশ্চর্য! কিন্তু উপায় কী?


বেঁচে আছি এটাই আসলে আশ্চর্য! কিন্তু উপায় কী?

প্রতিদিন যা খাচ্ছি, তা কি আসলেই খাবার, নাকি বিষ? আমাদের চারপাশে এত ভেজাল যে বিশুদ্ধ খাবার খুঁজে পাওয়াই দুষ্কর!

সকালে ঘুম থেকে উঠে যে টুথপেস্ট দিচ্ছি, তাতে ক্যান্সারের উপাদান!
নাস্তায় যে পরোটা খেলাম, তাতে অ্যামোনিয়া দিয়ে তৈরি লবণ!
ফলমূলেও ভেজাল: কলা, আম, লিচু সবই কার্বাইড দিয়ে পাকানো, ফরমালিন দিয়ে সংরক্ষিত!
সবজি সতেজ দেখায়, কিন্তু কপার সালফেট ও হাইব্রিড রাসায়নিক সার মেশানো!
হলুদ ও মসলা: এতে লেড ও ক্রোমাইটের মতো ভয়ংকর কেমিক্যাল!
মাংসেও নিরাপত্তা নেই: মুরগি বড় করতে দেওয়া হয় অতিরিক্ত অ্যান্টিবায়োটিক!
তেলেও ভেজাল: সয়াবিনের সাথে পাম অয়েল, সরিষার তেলে কেমিক্যাল!
মিষ্টান্ন ও পানীয়: জিলাপি পোড়া মবিল দিয়ে ভাজা, রুহ আফজা শুধু রঙ আর কেমিক্যাল!

এত ভেজাল খাবারের পর শরীর সুস্থ রাখার জন্য ওষুধ নিলে কী হয়? ৭০% ওষুধই মানসম্মত নয়! এখন প্রশ্ন হলো, এই ভয়াবহ বাস্তবতা থেকে পরিত্রাণের উপায় কী?

পরিত্রাণের উপায়:

নিজের খাদ্য নিজের হাতে: বাসার ছাদে বা বাগানে যতটা সম্ভব অর্গানিক শাক-সবজি, ফলমূল উৎপাদন করুন।
পুকুর/ফার্ম তৈরি করুন: হাঁস-মুরগি, মাছ ইত্যাদি নিজেই পালন করার চেষ্টা করুন।
প্রাকৃতিক সংরক্ষণ পদ্ধতি: ফরমালিন-মুক্ত সংরক্ষণে লবণ, সরিষার তেল, নিমপাতা ব্যবহার করা যায়।
বিশুদ্ধ পানি পান করুন: নিজে পানি ফিল্টার করুন বা ফুটিয়ে পান করুন।
ক্যামিকেলযুক্ত প্রসাধনী পরিহার করুন: টুথপেস্ট, সাবান, শ্যাম্পু—সবকিছু যতটা সম্ভব হারবাল ব্যবহার করুন।
স্থানীয় ও অর্গানিক পণ্য কিনুন: সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে কেনার চেষ্টা করুন।
সচেতনতা বৃদ্ধি করুন: পরিবার ও সমাজকে এই ভেজাল বিষয়ে জানাতে হবে এবং সম্মিলিতভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।

আমাদের চারপাশটা আমরা নিজেরাই গড়ে তুলেছি। তাই এটাকে বিশুদ্ধ রাখা, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য নিরাপদ রাখা আমাদেরই দায়িত্ব! ভেজালের বিরুদ্ধে সচেতন হোন, সুস্থ থাকুন!

Comments

Popular posts from this blog

কাশ্মীরের ইতিহাস

বাংলা ভাষার উৎপত্তি, বিকাশ ও সমৃদ্ধির ইতিহাস

মন্ত্রী প্রতিমন্ত্রী হচ্ছেন যাঁরা