ট্রাম্পের পদত্যাগ ও গণতন্ত্রের দাবিতে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে বিক্ষোভ, ইলন মাস্কের বিরুদ্ধেও প্রতিবাদ

ট্রাম্পের পদত্যাগ ও গণতন্ত্রের দাবিতে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে বিক্ষোভ, ইলন মাস্কের বিরুদ্ধেও প্রতিবাদ

ট্রাম্পের পদত্যাগ ও গণতন্ত্রের দাবিতে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে বিক্ষোভ, ইলন মাস্কের বিরুদ্ধেও প্রতিবাদ


ডেটলাইন: 

ওয়াশিংটন ডি.সি., ৫ এপ্রিল, ২০২৪

  

যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে বিরল এক দৃশ্য দেখা গেল শনিবার (৫ এপ্রিল)। দেশটির সকল ৫০টি অঙ্গরাজ্যের রাজপথে লাখ লাখ মানুষ রাস্তায় নেমে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পদত্যাগ ও গণতান্ত্রিক অধিকার পুনরুদ্ধারের দাবিতে বিক্ষোভে ফেটে পড়েন। "ট্রাম্পের পদত্যাগ চাই", "গণতন্ত্র মুক্তি পাক", "আমাদের কোনো রাজা নেই"—এমন স্লোগানে প্রকম্পিত হয়েছিল নিউ ইয়র্ক থেকে লস অ্যাঞ্জেলেস পর্যন্ত শহরগুলো। ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ উপদেষ্টা ও ধনকুবের ইলন মাস্কের বিরুদ্ধেও সমান ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বিক্ষোভকারীরা।  


বিস্তারিত:

দিনভর উত্তাল ছিল যুক্তরাষ্ট্র। প্রধান শহরগুলোর কেন্দ্রীয় পার্ক, রাজ্য ভবনের সামনে, এবং ঐতিহাসিক মনুমেন্টের আশেপাশে জমায়েত হয়েছিলেন হাজার হাজার নাগরিক। প্রতিবাদকারীদের হাতে থাকা প্ল্যাকার্ডে লেখা ছিল, "ট্রাম্পের স্বৈরাচার বন্ধ করো", "ধনিকশ্রেণির লাগাম টানুন"। অনেকেই অভিযোগ করেন, ট্রাম্প প্রশাসন ও তার মিত্র ধনকুবেরা গণতন্ত্রকে দুর্বল করে নিজেদের ক্ষমতা পাকাপোক্ত করতে চাইছেন।  

ট্রাম্পের পদত্যাগ ও গণতন্ত্রের দাবিতে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে বিক্ষোভ, ইলন মাস্কের বিরুদ্ধেও প্রতিবাদ

বিক্ষোভের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন টেসলা ও স্পেসএক্সের সিইও ইলন মাস্ক। ট্রাম্পের সাথে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক এবং নীতিনির্ধারণে প্রভাবকে "গণবিরোধী" আখ্যা দিয়ে এক বিক্ষোভকারী বলেন, "মাস্কের অর্থ ও প্রযুক্তি ক্ষমতাকে পণ্যে পরিণত করেছে। আমরা আর চুপ থাকব না।"  


প্রেক্ষাপট: 

বিশ্লেষকদের মতে, গত কয়েক মাসে ট্রাম্পের বিতর্কিত কিছু সিদ্ধান্ত, যেমন অভিবাসন নীতিতে কঠোরতা, জলবায়ু নীতি উপেক্ষা, এবং ধনীদের কর ছাড়ের পক্ষে অবস্থান, সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি করে। অন্যদিকে, ইলন মাস্কের সাম্প্রতিক মঙ্গল অভিযান ও সরকারি সুবিধা নেওয়ার বিষয়টিও সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।  


প্রতিক্রিয়া:

এখনো সরকার বা ট্রাম্প-মাস্কের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া আসেনি। তবে সূত্রমতে, হোয়াইট হাউস বিক্ষোভকে "অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির চেষ্টা" বলে অভিহিত করেছে। আগামী সপ্তাহে আরও বড় আন্দোলনের প্রস্তুতি নিচ্ছে বিক্ষোভকারীরা।  


 

যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে এই সমন্বিত বিক্ষোভ ২০২০-এর ব্ল্যাক লাইভস ম্যাটার আন্দোলনের পর সবচেয়ে বড় গণজাগরণ বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা। রাজনৈতিক পুনর্নির্মাণের এই দাবি কীভাবে মোকাবেলা করেন ট্রাম্প প্রশাসন, তা এখন সবার চোখ।  


ট্রাম্পের পদত্যাগ ও গণতন্ত্রের দাবিতে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে বিক্ষোভ, ইলন মাস্কের বিরুদ্ধেও প্রতিবাদ

শনিবার ওয়াশিংটন ডি.সি.-তে ট্রাম্প-বিরোধী বিক্ষোভে অংশ নেওয়া একদল তরুণ। প্ল্যাকার্ডে লেখা: "গণতন্ত্র হত্যা করা হবে না।"  


রিপোর্টার:

মোহাম্মদ ওসমান গনি সাগর

Comments

Popular posts from this blog

কাশ্মীরের ইতিহাস

বাংলা ভাষার উৎপত্তি, বিকাশ ও সমৃদ্ধির ইতিহাস

মন্ত্রী প্রতিমন্ত্রী হচ্ছেন যাঁরা