শুধুই নাম না, নাকি নিষ্ক্রিয়তার প্রতীক? — জাতিসংঘ, ওআইসি ও আরব লীগের বাস্তব ভূমিকা



শুধুই নাম না, নাকি নিষ্ক্রিয়তার প্রতীক? — জাতিসংঘ, ওআইসি ও আরব লীগের বাস্তব ভূমিকা

আজকের বিশ্বে যখন নিরীহ মানুষের রক্তে মাটি ভিজে যাচ্ছে, শিশুর কান্নায় আকাশ ভারী হয়ে উঠছে, তখন প্রশ্ন জাগে—জাতিসংঘ, ওআইসি (Organization of Islamic Cooperation), এবং আরব লীগ ঠিক কোথায়? তারা কী শুধুই নামমাত্র অস্তিত্ব, না কি যুদ্ধশেষে ধ্বংসস্তূপের নিচে লাশ খুঁজে বের করার সংগঠন?

জাতিসংঘ: শান্তির প্রতীক না রাজনৈতিক ব্যর্থতার প্রতিচ্ছবি?

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরে প্রতিষ্ঠিত জাতিসংঘের মূল উদ্দেশ্য ছিল বিশ্বে শান্তি রক্ষা করা, সংঘাত বন্ধ করা, এবং মানবাধিকারের নিশ্চয়তা দেওয়া। কিন্তু বাস্তবতা বড়ই নির্মম। গাজা হোক, ইয়েমেন হোক কিংবা সিরিয়া—যেখানে মানবিক বিপর্যয় চলছে, সেখানে জাতিসংঘের ভূমিকা যেন শুধু বিবৃতি প্রদানে সীমাবদ্ধ।

গাজা উপত্যকায় ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া সংঘাতে ২০২৪ সালের জানুয়ারির মধ্যে ২৫,০০০ বেসমারিক নাগরবক নিহত হয়েছেন। এই সংঘাতে নিহতদের মধ্যে প্রায় ৭০% নারী ও শিশু। জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস এই বেসামরিক মৃত্যুর হারকে "অভূতপূর্ব এবং অতুলনীয়" বলে বর্ণনা করেছিলেন।

রেজ্যুলুশন পাশ হয়, নিন্দা জানানো হয়—কিন্তু হত্যাকাণ্ড বন্ধ হয় না। শক্তিধর দেশের ভেটো ক্ষমতার কাছে জাতিসংঘ প্রায়ই অসহায়। নিরপেক্ষতা বজায় রাখার নাম করে তারা কার্যত নিষ্ক্রিয় রয়ে যায়।

ওআইসি: মুসলিম বিশ্বের নিস্তব্ধতা

মুসলিম দেশের সমন্বয়ে গঠিত ওআইসি’র সামনে চ্যালেঞ্জ অনেক। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, তারা কি সেই দায়িত্ব পালন করতে পারছে? ফিলিস্তিন ইস্যু হোক, রোহিঙ্গা সংকট হোক, বা কাশ্মীর সমস্যা—ওআইসি বারবার বিবৃতি দিয়েছে, কিন্তু বাস্তবে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে দেখা যায়নি।



মনে হয়, ওআইসি যেন কাগজে-কলমে থাকা একটি পুরাতন সংগঠন, যার কাজ শুধু “তীব্র নিন্দা” জ্ঞাপন করে বিবৃতি প্রকাশ করা। বাস্তবে মুসলিম বিশ্বের স্বার্থ রক্ষায় তারা কতটা সক্ষম—তা নিয়েই উঠছে বড় প্রশ্ন।

আরব লীগ: ঐক্যের অভাবে বিভক্ত সংগঠন

আরব লীগের উদ্দেশ্য ছিল আরব দেশগুলোর মধ্যে ঐক্য গড়ে তুলে যৌথভাবে আঞ্চলিক সমস্যা মোকাবেলা করা। কিন্তু মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব, নেতৃত্বের প্রতিযোগিতা, এবং পরস্পরের বিরোধিতার কারণে আরব লীগ কার্যত নিস্ক্রিয়। তারা চাইলেই গাজায় গণহত্যা রোধে উদ্যোগ নিতে পারত, কিন্তু রাজনৈতিক স্বার্থের কারণে তারা প্রায়ই চুপ থাকে।

বাস্তবতা বড়ই করুণ

যখন মা তার সন্তানের মৃতদেহ বুকে চেপে ধরছে, যখন হাসপাতালের ধ্বংসস্তূপে কান্না মিশে যাচ্ছে ধুলার সঙ্গে, তখন জাতিসংঘ বা ওআইসি’র প্রতিনিধিরা আন্তর্জাতিক সম্মেলনে উপস্থিত হয়ে মৃদু স্বরে দুঃখ প্রকাশ করেন। তাদের কার্যক্রম যেন কেবল প্রোটোকল মেনে চলে—মানবতা নয়।


এমনকি একটি প্রশ্ন জোরে জোরে না বললেও চলবে না—এই সংগঠনগুলো কি সত্যিই মানুষের জন্য কাজ করছে? নাকি তারা শুধুই আন্তর্জাতিক রাজনীতির ছায়া-নাটকের চরিত্র? সময় এসেছে এসব প্রতিষ্ঠানের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তোলার। বিশ্ববাসী নিরবে নিস্তব্ধতা মেনে নিচ্ছে—কিন্তু ইতিহাস নিশ্চয়ই একদিন জবাব চাইবে।

লেখকঃ মোহাম্মদ ওসমান গনি সাগর

Comments

Popular posts from this blog

কাশ্মীরের ইতিহাস

বাংলা ভাষার উৎপত্তি, বিকাশ ও সমৃদ্ধির ইতিহাস

মন্ত্রী প্রতিমন্ত্রী হচ্ছেন যাঁরা