নাজমুল হাসান পাপন ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে ৮০০ কোটি টাকার সন্দেহজনক লেনদেনের অভিযোগে দুদকের মামলা
নাজমুল হাসান পাপন ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে ৮০০ কোটি টাকার সন্দেহজনক লেনদেনের অভিযোগে দুদকের মামলা
রিপোর্ট:
ঢাকা: বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সাবেক সভাপতি এবং সাবেক যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রী নাজমুল হাসান পাপন ও তার স্ত্রী রোকসানা হাসানের বিরুদ্ধে প্রায় ৮০০ কোটি টাকার সন্দেহজনক লেনদেনের প্রমাণ পেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। একইসাথে, তাদের বিরুদ্ধে প্রায় ৩২ কোটি টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদের অভিযোগও উঠেছে।
দুদক সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘ অনুসন্ধানের পর এই দম্পতির বিরুদ্ধে অর্থপাচার, জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন এবং সন্দেহজনক ব্যাংক লেনদেনের প্রমাণ পাওয়া যায়। এ বিষয়ে দুদকের সহকারী পরিচালক (অনুসন্ধান) এর নেতৃত্বে একটি বিশেষ টিম গঠন করা হয়েছিল।
দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা আজ সোমবার এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানান, “নাজমুল হাসান পাপন এবং রোকসানা হাসানের বিরুদ্ধে পৃথক দুটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলায় তাদের বিরুদ্ধে অর্থপাচার প্রতিরোধ আইন এবং দুর্নীতি দমন আইনের বিভিন্ন ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।”
প্রাথমিক অনুসন্ধান অনুযায়ী, বিভিন্ন ব্যাংক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে দেশে ও বিদেশে বিপুল পরিমাণ অর্থ স্থানান্তর করা হয়। এছাড়া রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে তাদের নামে ও বেনামে বিপুল সম্পত্তির তথ্য পাওয়া গেছে, যার কোনো বৈধ উৎস দেখাতে পারেননি তারা।
দুদক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মামলার পর দ্রুত তদন্ত কার্যক্রম শুরু হবে এবং প্রয়োজনীয় হলে তাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করা হবে।
এ বিষয়ে নাজমুল হাসান পাপন বা তার স্ত্রীর কোনো প্রতিক্রিয়া তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। তবে তাদের আইনজীবী জানিয়েছেন, “আমরা আইনি প্রক্রিয়ায় সহযোগিতা করব এবং আদালতে অভিযোগের জবাব দেব।”
দুদকের এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক বলেছেন, “দেশে জবাবদিহিতা ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য এই ধরনের পদক্ষেপ জরুরি।”
এ ঘটনায় দেশের ক্রীড়া অঙ্গনসহ রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে।

Comments
Post a Comment